
কবিতা

বৃষ বৃক্ষ মানুষ

মানুষের কাটা তারে আমি আজ রক্তাক্ত! বিশ্বাসের করুণ দশা, হতাশার সাগরে দিগন্তহীন ভাসন্ত তরীর মাঝি।
আদি পিতামহ বেহেশত হতে সৃষ্ট মানুষ। কর্মগুণে হায়ানারে রূপান্তরিত হচ্ছে দিন-দিন। আজ এমনই এক দিনের সাক্ষী প্রতিটি প্রভাত থেকে রাত ডাইনোসরের মত হিংসায় ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে মানুষ। ধর্মে-বেধর্মে জাতে-বিজাতে মানুষ আর মানুষ নই এখন। প্রাণী কে বিশ্বাস করা যায় মানুষকে নয়।
আমি ঘুরেছি মানুষের দ্বারে-দ্বারে মোল্লা শিক্ষক,সাধু, সন্যাসী, বিশ্বাসের কোন ঠাই পেলাম না। আমি বারবার হেরে গেছি আমি আমার সরলতার কাছে বিশ্বাসের কাছে। মানুষগুলো আজ অত্যাধুনিক মোড়কে নিজকে আবৃত করে নিয়েছে। চেনা যায়না কোনটা মানুষ আর অমানুষ। আমি বৃক্ষ দেখে সজীব বৃক্ষের ছায়া পেতে পারি। আমি না জানলে বৃক্ষের কাছ থেকে ফল-ফুল অক্সিজেন পেয়ে ধন্য হতে পারি। হায়েনার, সিংহ, বাঘ, সাপ বিচ্ছু দেখে নিজকে আগলে রাখতে পারি সুরক্ষার জন্য। কিন্তু মানুষ দেখে মানুষের কাছে থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারিনা।
আমার স্বজাতি মানুষের কাছে আশ্রয় পাবার আশায় বারবার হেরে যায়। আমার এগিয়ে চলার পথ থমকে যায়।আমি পাথর টপকিয়ে সাগার, সাঁতরিয়ে আকাশে উড়ে পাড়ি দিতে পারি সীমাহীন গন্তব্য। শুধু পারিনা আমার স্বজাতিকে অবিশ্বাস করতে, স্ব-জাতি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে। স্ব-জাতির লেবাস পড়া মানুষগুলো ভেতর এতটা অন্ধকার আমার জানা ছিল না, যে অন্ধকারে আমি পথ হারিয়ে ফেলবো। অঙ্কুরিত শিশু চারার মত ভেঙ্গে গেছে আমার শাখা-প্রশাখা।
আমি একটি হাত ধরার জন্য, আমি একটি ছায়া পাবার জন্য, ঘুরেছি মানুষের দ্বারে দ্বারে। স্বার্থের চাপা কলে পরে আমি ছিটকে পড়েছি বারবার। আমি আমার গন্তব্যে যেতে পারিনি, ছুঁতে পারিনি।। তাই আজ আমার বড় পরিচয়; আমি পারিনা, আমি পারিনা !আমি পারিনা, পারিনা,পারিনা, কিচ্ছু পারিনা।

আশা যেমন বাঁচতে শেখায়,
তেমনি আশাহত সময় কে করে তুলে দুর্বিসহ যন্ত্রনা!
আশানাশে আমার বসবাস নিশিদিন কাতর।
তবু ভোরের মতো প্রত্যাশার রবি জাগায় মনে।
মেঘ কেটে যাবে আধাঁর দূর করে হাসব বলে।
বিশ্বাস ভক্তিপূর্ণ মনে ভাবি, আমার প্রভু আমাকে নিজ কর্মের উত্তম প্রতিদান দিবেন, দুনিয়ার কেউ ভালো ও সততার কর্মের মূল্য বুঝুক আর নাইবা বুঝুক। এমন ভালো অনেক কিছুই পেয়েছি যা পাওয়ার কথা কখনো ভাবিনী। এমন ভালো কিছু পেয়ে হয়তো আমি এর সঠিক যত্ন দিয়ে পারিনি যা আবার হারিয়েছি।
আমি যেমন পাওয়ার সুখে আত্মতৃপ্ত, তেমনি হারানো শোকে মনোতপ্ত। আমি বিশ্বাস করি আমি আমার ভুল শুধরাতে পারলে আবার এমন মহৎ ও বিহত কিছু পাবো যা কখনো আমি ভাবতে পারেনি। আমার প্রভু অসীম বিহৎ যার সমকক্ষ আর কিছুই হতে পারেনা।
আমি অহংকার ও গর্ব করি, আমি এমন একজন প্রভুর সৃষ্টি সর্বোত্তম পথে আছি। তার পছন্দনীয় বন্ধুর আদেশ নিষেধ বোঝার সঠিক জ্ঞান দিয়েছেন। যার তুলনা দুনিয়ার কিছুতে হয়না। আমি নিজকে ধন্য তখনি ভাবি যখন সঠিক সময়ে তাঁর দরবারে মাথানত করে শুকরিয়া আদায় করতে পারি।
আশাহত আমাকে বিষিয়ে তুলে, যেন আমি পিছু না হাঁটি সেই প্রার্থনা করি সতত। আমাকে সেই শক্তি ও জ্ঞান দাও হে, প্রভু। আমি যেন নিজকে পবিত্র আলোয় আলোকিত করতে পারি। তোমার সুগভির সৌন্দর্য থেকে বন্চিত করোনা।

রাত দশটা পনেরো মিনিটের ঘরে, ঘড়ির কাটা হাটছে। বাজারে অন্যান্য দোকান গুলো একে একে বন্ধ করে আজকের মতো ইস্তফা দিতে যাচ্ছে। আমিও ফার্মেসীর শাটার টেনে বন্ধ করতে যাব। এমন সময় একজন পরিচিত কাস্টমার এসে বলল একটু একটু রাখেন। আমার আম্মা অসুস্থ ! আম্মার জন্যে ঔষধ নেবো..রুগিনীর অসুস্থের বর্ণনা শুনে বললাম রুগীকে না দেখে ঔষধ দেওয়া যাবেনা । লোকটি কেমন যেন হতচকিয়ে গেলো। আমি বললাম চলুন প্রয়োজনীয় কিছু ঔষধ সাথে নিয়েছি যা লাগে পরে দেখব । আমিতো এই পথেই বাড়ি ফিরব আপনার আম্মাকে দেখে যাবো। ওনার নাম রহিম, হাতে ফাস্ট এইড ব্যাগটি দিয়ে মটর সাইকেলের পেছনে বসিয়ে পাঁচ-মিনিটে রহিম সাহেবের বাড়িতে পৌছে গেলাম।
বাড়ির সামনে নান্দনিক ফুল বাগান। রাঙানো আলোয় মনোরম পরিবেশ মুগ্ধ করছে বাহিরে। ডুপলেক্স বাড়ি। একটি রুমে আমাকে বসিয়ে বলল আপনি বসুন আমি আম্মাকে নিয়ে আসছি…! আমি অপেক্ষা করছি পাঁচ মিনিট পর ফিরে এসে বলল আর একটু অপেক্ষা করুন। এখনই নিয়ে আসছি, আমি বললাম কোথায় আপনার মা আমাকে নিয়ে চলুন। এমনিতে রাত হয়ে গেছে আর যে অবস্থা বলেছেন দেড়ি করছেন কেনো? রহিম সাহেব আমাকে কিছু না বলে-ভিতরে রুমে চলে গেলো। আমার কিছুটা বিরক্তি বোধদয় হলো। শুনতে পাচ্ছি ওনার স্ত্রীর সাথে কথা কাটাকাটি হচ্ছে ।

যদিও একটা কথা বলা ঠিকনা, কিন্তু না বলে পারছিনা। শুনলাম রহিম সাহেবের ছেলে ইটালি থেকে আসছে কিছু দিন হলো। ছেলেকে বিবাহ করাবে। সমস্যা হচ্ছে কিপ্টামি স্বভাব আছে যার জন্যে সবকিছু ঠিকঠাক হওয়ার পর সম্বন্ধ ছুটে যাচ্ছে। এটা এলাকার সবাই জানে অনেক কষ্ট করে রহিম সাহেবের মা বাবা রহিম সাহেবকে বড় করছেন । দূর্ভাগ্য রহিম সাহেব এক মাত্র সন্তান হয়েও বাবাকে সুখের মহলে তুলতে পারেনি। সুখের মুখ দেখার আগেই পরপারে চলে গেলেন। বাবার ভিটেমাটিতেই মায়ের ঘর ভেঙ্গে ডুপ্লেক্স বাড়ি ওঠালেন। যদিও বাবার সম্পদ বিক্রি করে ছেলেকে প্রবাসে পাঠালেন। কিন্তু এখন রহিম সাহেব কে, ছেলে আর ছেলের মা’র কথায় ওঠবোস করতে হয়।
রহিম সাহেব ভিতরের রুম থেকে ফিরে এসে বলল, চলুন ডাক্তার সাহেব। যদিও আমি ডাক্তার নয়, তবু এলাকার সবার নিকট একজন ডাক্তার। সবাই আমার বাব দাদার দেয়া সুন্দর নামটাকে ডুবিয়ে এই নামেই চিনে। আমি রহিম সাহেবের পিছুপিছু হাটছি এবং একটু পরে আমি ভয় পেয়ে গেলাম। ভাবছি পালাবো না কি? মনে মনে সাহস ফিরিয়ে আনলাম যত কিছু হোক , আমি এই এলাকার সন্তান। সাহস নিয়ে বল্লাম কাকা কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন অন্ধকারে । আপনি না আপনার মা কে দেখাবেন। এখন ঘর ছেড়ে বাঁশঝাড়ে অন্ধকারে কেনো? রহিম সাহেব বলল আরে বাবা ভয় পেয়োনা.. চলো আমার সাথে..! চলতে গিয়ে মনে হলো এই পথে কেউ তেমন চলাচল করেনা। একজনের বেশি লোক যাওয়া যায়না। ওনি টচ লাইটের আলোয় আমাকে পথ চলতে সহযোগীতা করছেন । অবশেষে ওনার মাকে পেলাম মায়ের ঘরে ! কিন্ত এই আমি কি দেখছি…মায়ের এই মর্যাদা। এতো বড় বাড়ি এই নির্জনে। এখানে একটা মানুষ থাকতে পারে আমার জানা ছিলনা। ভাগ্যিস বাড়িটি বাউন্ডারি ইটের দেয়াল দেওয়া চারপাশে নয়তো শেয়াল টেনে ছিঁড়ে খেতো। রহিম সাহেবকে মায়ের কষ্ট থেকে বাঁচানো যেতো। ভাঙ্গাচূড়া কয়েকটা বাঁশের খুটির ওপর দাঁড়িয়ে আছে পুরনো ঝংধরা টিনের ছাদ। নোংরা পরিবেশ বসবাসের অনুপযোগী একটি দু-চালা টিনের ঘর। ঘরে মাকড়সা জালবুনে রেখেছে ধুলো বালির আস্তর জমে আছে। ঘরের ভেড়াগুলো ভেঙ্গে পরে গেছে পাটখড়ির হওয়ায়। উইপোকা বাসা বেঁধেছে মা শুয়ে আছে হয়তো তার বাপকালের চকিতে । এই ঘরখানি এই বাড়ির এক সময় লাকড়ী রাখার ঘর ছিল আজ মায়ের ঘর। আধুনিকতার কোন সুযোগ এখানে নেই বিদ্যুতের যুগে একটি ভাঙ্গা হারিকেন মিটমিটে জ্বলছে ঝাপ্সা আলোয় মায়ের জীবন।

মায়ের শরিরে প্রতিটি হাঁড় জেগে ওঠেছে। কংকালের ভেতর থেকে আমাদের উপস্থিতি পেয়ে লড়েচরে ওঠল। মুখে দাত না থাকায় চোয়াল দুটি ভেঙ্গে গেছে। দেখলাম জ্বরে কাঁপুনি এসে গেছে। চোখ দুটি মিটমিটে বলছে অসহায়ের কথা । ছেলে মেয়ে জন্মদিয়ে মায়ের সোহাগের অসহায়তার কথা। আমি ওনার চিকিৎসার কথা বলার আগে বলতে চেয়েছিলাম মায়ের সম্মানের কথা । তার আগেই চালাক মানুষ বলে ওঠল। ঘরে রঙ করেছি রঙের গন্ধে আম্মার শ্বাসরোগ বেড়ে যাবে ভয়ে এখানে রেখেছি । আমি ভ্রূক্ষেপে বললাম ঠিকই বলেছেন মায়ের এখানেই রাখার যায়গা! এখানে রাখলে শ্বাসরোগ হবেনা । আমি চললাম আপনার মায়ের চিকিৎসা আমাকে দিয়ে হবেনা। এই বলে বের হতে গেলাম, বুঝতে পারলাম কি যেন একটা বাঁধা পেলাম টেনে ধরছে। চেয়ে দেখি রহিম সাহেবের মা আমার জামা টেনে ধরছে। যেন আমি চলে না যায়। আমি থেমে গেলাম অস্বভাবিকভাবে। থার্মোমিটার দিয়ে দেখলাম জ্বর একশো তিন ফারেনহাইট। শ্বাসকষ্ট ও লো- প্রেশার। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পূর্বে ডুপ্লেক্স বাড়িতে মায়ের জায়গা হলো। পর দিন সকালে যাওয়ার পথে নিজ থেকে দেখতে গেলাম কেমন আছে এই মা । বাড়িতে ডুকেই পেলাম রহিম সাহেবকে ওনি হাসি মুখে মায়ের কাছে নিয়ে গেলো। গতরাত আর আজ সকাল সত্যি পাল্টে গেছে দুনিয়া। যেন আমি ফুটন্ত ফুলের হাসি দেখতে পেলাম মায়ের মুখে। দেখে মনে অনেক শান্তি পেলাম ঐ দিনটি যেন ছিল আমার সেরা দিন। মনে মনে ভাবলাম আহ্ একটু যত্ন পেলে অবহেলিত এইসব মায়েরা কত না ভালো থাকতো।
এভাবে মাস দুয়েক আমি মাঝেমধ্য আসা যাওয়ার সময় সুযোগ পেলে দেখা করে যেতাম। কেমন আছেন খোঁজ খবর নেওয়ার পাশাপাশি একরকম মায়া হয়ে যায়। আমি একটা কাজে ঢাকা আসি এখানে এক সপ্তাহ আমাকে থাকতে হয় । এক সপ্তাহে পর বাড়িতে এসে বাজারে যাওয়ার পথে জানতে পারি রহিম সাহেব এর মা আর নেই।

রহিম সাহেবের মা আবার অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হসপিটালে দুদিন থাকার পর চির বিদায়ের পথে মা চলে গেলেন। এই দিন রাতে রহিম সাহেবের মায়ের সাথে দেখা প্রথম রাতের কথা বারবার মনে হচ্ছে । কি করে সন্তানরা এরকম হয়। যে মা এতো ত্যাগ করে আমাদের জন্য। আর আমরা তাদের বৃদ্ধ বয়সে তাদের ভুলে যায়! তাদের জন্যে যে দুনিয়ার আলো দেখতে পেলাম। আজ কিছু সন্তানরা এরকম… নাহ, ভাবতেই পারছিনা। আমার অস্বস্থি ছটফট দেখে আমার সহধর্মী ব্যপারটা জানতে চাচ্ছে। আমি ঘটনাটি খুলে বললাম। একজন মা এতো কষ্ট করে দশমাস গর্ভে রেখে খেয়ে না খেয়ে সন্তানকে মানুষ করতে চায়। তার সন্তান বড় হোক সুখে থাকোক এই প্রার্থনা করে সবসময়। আর সেই সন্তান যখন সুখের ঘরে প্রবেশ করে সেই ঘরে মায়ের যায়গা হয়না। এমন সন্তান যেনো কোন মায়ের গর্ভে না আসে। পৃথিবীর সকল মা ভালো থাকুক সন্তানের অভাব থেকে দূরে থাকুক। প্রতিটি মানুষের মায়ের মতো সেবা হোক জীবনের শেষ প্রান্তে এসে যেন কোন মা বাবা কষ্ট পেতে না হয় সেই মন মানুষিকতা থাকুক সকল সন্তানের।

সমাপ্ত

সবুজ পাতার ঘোমটা দেওয়া
হলদে ফুলের বন,
আমি এখন প্রবাস দেশে
কাঁদছে আমার মন।
মনটা আমার খুঁজে বেড়ায়
সকাল দুপুর সাঝ,
জন্মভূমি মায়ের কাছে
যতই থাকুক কাজ।
মায়ের হাসি দোয়েল কোয়েল
ধানশালিকের মাঠ,
তিতাস নদের তীরে বসে
করছি যেনো পাঠ।

মাঝির নায়ে ভাসছি আমি
আসছি ফিরে এই,
ভাটির গানে দুলছে এ মন
ভাবতে দারুণ সেই।
কেমন আছো বন্ধু-স্বজন
কাব্য দলের টান,
বাজাও কেমন আপন সুরে
মায়ের ভাষার গান।
ফাগুন এলো আমের বনে
কাঠাল ফুলের তল
কোকিল কেমন গান শুনাল
শুনলে কেমন বল।
শুনতে আমার মন উড়ে যায়
প্রজাপতির ছল,
তবু যে হায় উদাস পাখী
পায়না খোঁজে বল্।

তোমার মতো এমন হাসি
পাইনি খুঁজে আর,
ভোর বিহানে মোরগ ডাকে
শুনতে চমৎকার।
একলা আমি একলা মাগো
যতই চেনা হয়,
তোমার কোলে থাকতে যেমন
এমন কেহ নয়।
সবাই ছুটে আপন পথে
কেউ-তো কারো নয়,
তবও অনেক চেষ্টা করে
আপন টেনে লয়।
ইচ্ছে করে ছুটে বেড়ায়
কাঁচা মাটির পথ,
মাটিতো নেই শুধুই পাথর
কঠিন মনোরথ।
সত্যি করে বলছি মিথ্যে
ভালো আছি বেশ
মাতৃভূমি মাগো তুমি
ভালো থেকো দেশ।
ভালো থেকো আকাশ নদী
ভালো থেকো ফুল,
ভালো থেকো মাঠ ও মাটি
ভালো থেকো মূল।
হুতাশীর চোখে আমি হুতাশন
কুমারীর বুকে প্রেম উদ্দাম!
বন্ধন হারা নয়নে অগ্নি আমি উজ্জল।
আমি বসুধার বুকের সবুজের হাসি
ছুটে চলা নদীর উন্মাদ ঊর্মি
ভেঙ্গে চলা খুলিয়া বাঁধ।

আমি কিশোর মেয়ের কাঁকন চুড়ির ঝনঝন
কুমারীর বেণীতে ফুল প্রাণ-খোলা বন্ধন
আমি যৌবনের অরুণ রৌদ্র তরুণ
আমি দক্ষিণা বায়ু পাতালের মাতাল
শ্যামল কবির পথিক মায়া।

জেগে ওঠার রণ
”বেজে উঠল কি সময়ের ঘড়ি
এসো আজি তবে বিদ্রোহ করি”
এসো আজি নিজের জন্য লড়ি
জাগায় ভোরের রবি।
আঁধারে আজি নাহি কোনো ভয়!
আমরা আনিব সত্যের বিজয়,
এসো সত্য জয়ের করি প্রত্যয়
রাঙা দিনের ছবি।
তীর ভাঙা ঐ ঢেউয়ের ফণা তুলে,
আঘাত হানো অকল্যাণের মূলে!
পিছু ফেরার নাইরে সময় ভুলে
আয়রে হৃদয় খুলে।
জাগো অসহায় জাগো দূর্বল দল
ঘুমের ঘরে শোষণ করে যে ছল
ভেঙে ফেলো উপরে ফেলো বল
বদ্ধ দুয়ার খুলে।
জ্বলুক আগুন উঠুক তুফান গুর্ণি,
মানবোনা বাঁধা সব করব চূর্ণি
রুখব এবার যত সবি দূর্নি
কোথায় ওরে নবীন।
আজি নাহি কোন শৃঙ্খলা সীমা
এ লড়াই মুক্তির শুদ্ধ ধা মা মা
রাঙা চোখে নও প্রসন্নে ক্ষমা
মুক্তির নিশান দূর্বীন।
দিকে দিকে আয়রে ছুটে যতো
বসে থাকার নাইরে সময় ক্ষতো
বেপরোয়াদের আগুনের মতো
আয়রে আমরা লড়ি,
মুক্তির বিদ্রোহ করি।
কথায়: ইবনে মনির
সাম্যবাদি কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য’র কবির বিদ্রোহী গানের ঘুম নেই কবিতাটি থেকে প্রথম দুটি লাইন রেখে সাজানো হল কবিতা।
ইবনে মনির হোসেন
============================

বিশ্বাসে পুড়ি আমি
সহজেই আমি বিশ্বাস করে ফেলি। প্রতিটি
প্রভাতের মতো, রক্তে আমার এ বড় নেশা!
বুঝিনা কেনো আমার এরকম হয়-
বিশ্বাস করতে চাইনা বলেও, সকল প্রতিজ্ঞার
নিকট আমি বারবার হেরে যাই!
পরাজিত সৈনিকের মত লুটিয়ে পড়ে, আমার
সকল বিশ্বাস-আশ্বাস। জানি হেরে যাওয়া
আমার জন্যে কতটা ক্ষতির কারণ।
কারণগুলো বর্ণনা করতে আমার গা-শিউড়ে ওঠে
না বলার ব্যথা তনুতে-অণুতে।
বুঝিনা, কেনো আমার এরকম হয়। যে রকম
সহনশীলতা আমার একদম নেই! চৈত্রের ডালে
ঝরা পাতার মতো আলতো বাতাসেই ঝরে যাই!
আমার সকল বিশ্বাস সূতো কাটা ঘুড়ির মতো
উড়তে থাকে, দিগবিদিক দুয়াশার মগডালে।
বেদনার বেনোতে পুড়তে থাকে সারাটি অন্ধকার!
যতটা সহজে বিশ্বাসের ঘর সাজায়, ততটা সহজে আর
কাছে থাকতে পারিনা। বিরহের অনলে জ্বলে-জ্বলে
পুড়তে থাকে আমার স্বপ্নের পরতে-পরতে!
আমি হেরে যাই বিশ্বাসের কাছে। দূরে চলে যাই একে একে আমার আশা, ভালোবাসা!
দু-চোখ ভরা স্বপ্নের উঠোনে-
ব্যথা ভরা ধূসর আঁধার অমবশ্যার চাঁদের মলিনতা খেলা করে।
তীর হারা গন্তব্যহীন মাঝির, বুক ফাঁটা নিরব বেদনার উদাসীন বেনোজল….
এতোটা সহজে বিশ্বাস করে ফেলি কেনো?
কেনো বিশ্বাসের মায়াজালে পুড়ি বারবার?
আমি কার কাছে সুধাবো এ আমার নেশা-
না’কি দূর্ভাগ্যের একটি অংশ…

শান্তি চাই যুদ্ধ নয়
কথায়: ইবনে মনির হোসেন
চাইনা যুদ্ধ চাইনা সংঘাত
চাই একতা শান্তি
এসো সমৃদ্ধির পথে যায়
ভেঙ্গে ভুল-ভ্রান্তি
চেয়ে দেখো কাঁদছে শিশু
দিকে দিকে আগুন
ছোট ছোট ভুলে জ্বলে
রাঙ্গা হাসির ফাগুন।
কি পেয়েছ বুলেট বোমায়
কি হয়েছে ভালো
দিকে দিকে যুদ্ধনীতি
স্বার্থনেশি কালো
পুড়ছে নগর পুড়ছে মানুষ
বিভীষিকা মনে
বাহাদুরি দেখতে গিয়ে
সভ্য মানুষ বনে।
হিরোশিমা কি দেখেছে
ইরাক সিরিয়া ঐ
লিবিয়াতে কি পেয়েছে
তার যুদ্ধ গেল কই
ফিলিস্তিনে জ্বলছে আগুন
দেখছে নিরব মানব
শান্তির নামে কেউ এলোনা
লড়াই করা দানব
ইউক্রেন আর রাশিয়া দেখো
কাঁদছে ধ্বংস ভয়ে
বিশ্বজুড়ে বাড়ছে হতাশ
খাদ্য সংকট লয়ে

পায়ে পাড়া দিয়ে গায়ে
দিচ্ছে হাতছানি ঐ
মায়ানমারের আগুন নিয়ে
বঙ্গমায়ের হয় ভয়
জ্বালানিতে ঘাটতি দেখে
লড়াই দিকে দিকে
মানবতা শান্তি নেই আর
সবুজ হাসি ফিকে
ধৈর্য যেন আগুন শিখা
আধুনিক এই যুগে
উন্নয়নে পথে হেঁটে
অসহায়ে ভোগে।
এসব যদি চলতে থাকে
স্বার্থ, লড়াই, হানা
পৃথিবীটা ধ্বংস হবে
মানব সভ্য জানা
এসো যায় ইনসাফের পথে
হিংসা লড়াই ভুলে
এসো শান্তির মিলন পথে
সভ্য হৃদয় খুলে।
January 2026 M T W T F S S 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31
January 2026 M T W T F S S 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31






























