বৃষ বৃক্ষ মানুষ

মানুষের কাটা তারে আমি আজ রক্তাক্ত! বিশ্বাসের করুণ দশা, হতাশার সাগরে দিগন্তহীন ভাসন্ত তরীর মাঝি।
আদি পিতামহ বেহেশত হতে সৃষ্ট মানুষ। কর্মগুণে হায়ানারে রূপান্তরিত হচ্ছে দিন-দিন। আজ এমনই এক দিনের সাক্ষী প্রতিটি প্রভাত থেকে রাত ডাইনোসরের মত হিংসায় ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে মানুষ। ধর্মে-বেধর্মে জাতে-বিজাতে মানুষ আর মানুষ নই এখন। প্রাণী কে বিশ্বাস করা যায় মানুষকে নয়।
আমি ঘুরেছি মানুষের দ্বারে-দ্বারে মোল্লা শিক্ষক,সাধু, সন্যাসী, বিশ্বাসের কোন ঠাই পেলাম না। আমি বারবার হেরে গেছি আমি আমার সরলতার কাছে বিশ্বাসের কাছে। মানুষগুলো আজ অত্যাধুনিক মোড়কে নিজকে আবৃত করে নিয়েছে। চেনা যায়না কোনটা মানুষ আর অমানুষ। আমি বৃক্ষ দেখে সজীব বৃক্ষের ছায়া পেতে পারি। আমি না জানলে বৃক্ষের কাছ থেকে ফল-ফুল অক্সিজেন পেয়ে ধন্য হতে পারি। হায়েনার, সিংহ, বাঘ, সাপ বিচ্ছু দেখে নিজকে আগলে রাখতে পারি সুরক্ষার জন্য। কিন্তু মানুষ দেখে মানুষের কাছে থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারিনা।
আমার স্বজাতি মানুষের কাছে আশ্রয় পাবার আশায় বারবার হেরে যায়। আমার এগিয়ে চলার পথ থমকে যায়।আমি পাথর টপকিয়ে সাগার, সাঁতরিয়ে আকাশে উড়ে পাড়ি দিতে পারি সীমাহীন গন্তব্য। শুধু পারিনা আমার স্বজাতিকে অবিশ্বাস করতে, স্ব-জাতি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে। স্ব-জাতির লেবাস পড়া মানুষগুলো ভেতর এতটা অন্ধকার আমার জানা ছিল না, যে অন্ধকারে আমি পথ হারিয়ে ফেলবো। অঙ্কুরিত শিশু চারার মত ভেঙ্গে গেছে আমার শাখা-প্রশাখা।
আমি একটি হাত ধরার জন্য, আমি একটি ছায়া পাবার জন্য, ঘুরেছি মানুষের দ্বারে দ্বারে। স্বার্থের চাপা কলে পরে আমি ছিটকে পড়েছি বারবার। আমি আমার গন্তব্যে যেতে পারিনি, ছুঁতে পারিনি।। তাই আজ আমার বড় পরিচয়; আমি পারিনা, আমি পারিনা !আমি পারিনা, পারিনা,পারিনা, কিচ্ছু পারিনা।
